দুর্গাপুর শহরের মেয়ে তিথি, চোখে ছিল উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন। কিন্তু তার আগেই তার বিয়ে হয় গণ্ডগ্রামে। স্বামী রঙ্গন পেশায় মার্চেন্ট নেভির কর্মী। বিয়ের পর তিথির জীবন এক নতুন মোড় নেয়, শহুরে স্বাচ্ছন্দ্য ছেড়ে তাকে মানিয়ে নিতে হয় গ্রামের খোলামেলা, কখনও বা কঠোর বাস্তবতার সঙ্গে। স্বামী বছরের অর্ধেক সময় সাগরে থাকে, আর তিথিকে একা সামলাতে হয় শ্বশুরবাড়ির রক্ষণশীল পরিবেশ, অনুশাসন এবং গ্রামের বিচিত্র সব নিয়মকানুন।এই উপন্যাসে উঠে এসেছে নদিয়ার তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষের জীবনসংগ্রাম, বন্যাবিধ্বস্ত গ্রামীণ জীবনের অসহায়তা এবং পূর্ববঙ্গ থেকে আসা ছিন্নমূল মানুষের নতুন করে শিকড় গাড়ার ইতিহাস। তিথি দেখেছে বন্যার সময় মানুষের ঐক্য, রাধারানির মতো মেয়ের বিয়ের নামে বলি হওয়া, আবার শিবানির মতো গৃহবধূর নীরব আত্মত্যাগ।দীর্ঘ আড়াই দশকের পথচলায় তিথি প্রত্যক্ষ করেছে সময়ের পরিবর্তন, প্রজন্মের ব্যবধান এবং গ্রাম থেকে শহরে স্থানান্তরের কাহিনি। ‘সাগরতীরের সোনার দেশ’ কেবল একটি মেয়ের বধূজীবনের গল্প নয়; এটি ভালোবাসা, বিচ্ছেদ, মাতৃত্ব এবং একান্নবর্তী পরিবারের ভাঙা-গড়ার এক বিশ্বস্ত দলিল।