সুকুমার রায়ের বিখ্যাত 'আবোল তাবোল' বইয়ের একটি অত্যন্ত হাস্যরসাত্মক ও কালজয়ী কবিতা হলো 'কাতুকুতু বুড়ো'। কবিতার শুরুতেই কবি সপ্তসাগর পারের এক অদ্ভুত ও সর্বনেশে বৃদ্ধ ‘কাতুকুতু বুড়ো’র কাছে যেতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। এই বুড়োর বাড়ি কোথায় কেউ জানে না। সে কাউকে একা পেলে জোর করে আবল-তাবল গল্প শোনায়, যা শুনলে হাসির চেয়ে কান্না বেশি পায়। বুড়ো লম্বা পালক দিয়ে গায়ের উপর সুড়সুড়ি দেয় এবং খ্যাংরার মতো আঙুল দিয়ে পাঁজর ও হাড়ে খোঁচা দেয়। যতক্ষণ না শিকারের মুখে হাসি ফোটে, ততক্ষণ বুড়োর হাত থেকে কোনো ছুটি নেই—হাসতেই হবে। এই বুড়ো নানা অদ্ভুত জিনিস বিক্রি করত, যেমন—কুমড়ো, কচু, হাঁসের ডিম আর তিসি। মজার ব্যাপার হলো, তার বেচার কচুর গায়ে রঙ-বেরঙের আলপনা আঁকা থাকত। বুড়োর জীবনযাত্রা ও তার আশেপাশের পরিবেশ পুরোপুরি অবাস্তব। সে কুমড়ো, কচু, হাঁসের ডিম আর তিসি বিক্রি করে, কচুর গায়ে নানা রঙের আল্পনা আঁকা থাকে এবং মুখ দিয়ে জন্তু-জানোয়ারের মতো আজব আওয়াজ বের করে।