ইতিহাস
9 টি বই

রিমঝিম দাস, সৌমক পোদ্দার
এই গ্রন্থের বিষয়বস্তু আজাদ হিন্দ সেনাদের স্মৃতিচারণ। এই গ্রন্থের বিশেষত্ব— স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে আটজন INA সেনার সাক্ষাৎকারের অন্তর্ভুক্তি। এই সেনানীদের কেউ ছিলেন কর্নেল, কেউ মেজর বা লেফটেন্যান্ট, কেউ বা হাবিলদার। সাক্ষাৎকার ভিত্তিক এইসব লেখায় বিবৃত হয়েছে যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা, নেতাজির যুদ্ধ পরিচালনার কথা, নেতাজির সঙ্গলাভের কথা ও অন্যান্য নানা বিষয়। অন্য লেখাগুলিও আজাদ হিন্দ সেনানীদের কলমে, তাঁদের অভিজ্ঞতা-সঞ্জাত। দুর্মূল্য এই সাক্ষাৎকারগুলি ইতিহাস-প্রিয় পাঠকের কাছে বিশেষ আগ্রহ সৃষ্টি করবে।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সন্ন্যাসী বিদ্রোহের পটভূমিতে লেখা উপন্যাস, যার ভিতরে জন্ম নিয়েছিল 'বন্দে মাতরম্'।

শান্তা শ্রীমানী
গ্রন্থ পরিচয়:কুম্ভলগড় দুর্গের ৩৮টি বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম প্রাচীর। আটটি ঘোড়া পাশাপাশি চলতে পারে এই চওড়া প্রাচীরের ওপর দিয়ে। কুম্ভলগড় দুর্গে চাষবাসও হত। রাতেও যাতে চাষীরা কাজ করতে পারে সেজন্য প্রতিদিন ৫০ কেজি ঘি ও ১০০ কেজি তুলো দিয়ে দুর্গপ্রাচীরে বিশাল বিশাল মশাল জ্বালাবার ব্যবস্থা করেছিলেন রাণা কুম্ভ। গুজরাতপতি বাহাদুর শাহের চিতোর দুর্গ আক্রমণের সময় রুখে দাঁড়িয়েছিলেন রাণী জবহর বাই। শত্রুর ছোঁড়া গোলার আঘাতে মৃত্যু হয়েছিল তাঁর। হাসি মস্করাতেই মেতে থাকতেন চিতোরের রানা লক্ষসিংহ। এই মস্করার কারণেই জ্যেষ্ঠ পুত্র যুবরাজ চণ্ডের সিংহাসনে বসা হল না। মৃগয়ায় শশক শিকার করতে গিয়ে আরাবল্লী পর্বতের গিরওয়া উপত্যকায় পিছোলা হ্রদের তীরে রাজধানী খুঁজে পেয়েছিলেন মেবারের রাণা উদয়সিংহ। বিয়ের মতো বিয়ে হয়েছিল রাণা দ্বিতীয় সংগ্রাম সিংহের। যৌতুক হিসেবে তাঁর শ্বশুরমশাই মেয়ের সঙ্গে পাঠিয়েছিলেন মেয়ের ৪৮ জন সুন্দরী সখীকে। চিতোরের রাণা বনবীরের হাত থেকে উদ্ধার করতে ফলের ঝুড়ির মধ্যে লুকিয়ে উদয়সিংহকে চিতোর থেকে কুম্ভলগড় দুর্গে আশা শাহের আশ্রয়ে এনেছিলেন ধাত্রী পান্নাবাঈ। কালিঞ্জর দুর্গ অবরোধ চলাকালীন ১৫৪৫ খ্রিস্টা

ডাঃ অবিনাশচন্দ্র ভট্টাচার্য
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক বিস্মৃত অধ্যায়কে তুলে ধরেছে ডাঃ অবিনাশচন্দ্র ভট্টাচার্যের 'ইয়োরোপে ভারতীয় বিপ্লবের সাধনা'। ইন্ডিয়া হাউস, মাদাম কামা, বীর সাভারকর, বীরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, মদনলাল ধিংড়া, বার্লিন কমিটি এবং হিন্দু-জার্মান পরিকল্পনার প্রত্যক্ষ ও প্রামাণ্য বিবরণে সমৃদ্ধ এই বইয়ে ইউরোপে ভারতীয় বিপ্লবীদের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সশস্ত্র সংগ্রামের জীবন্ত ইতিহাস ফুটে উঠেছে। প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী লেখকের স্মৃতিচারণ ও তথ্যনিষ্ঠ বিশ্লেষণ বইটাকে স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসচর্চার এক অনন্য অপরিহার্য দলিলে পরিণত করেছে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
১৮৬৫ সালে প্রকাশিত, বাংলা ভাষার প্রথম আধুনিক উপন্যাস। পাঠান-মুঘল সংঘাতের পটভূমিতে জগৎসিংহ আর তিলোত্তমার কাহিনি।

রমেশচন্দ্র মজুমদার
ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার প্রণীত স্বামী বিবেকানন্দ সম্পর্কিত সাতটি এবং সুভাষচন্দ্র সম্পর্কিত নয়টি রচনা এই গ্রন্থে সন্নিবেশিত হয়েছে। বিভিন্ন পুরাতন পত্র-পত্রিকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রচনাগুলি গ্রন্থবদ্ধ করার এই প্রয়াস পাঠকের কাছে সমাদৃত হবে বলে আশা রাখি। Quote on Cover / উক্তি:"সুগভীর, জটিল ও ঋদ্ধিসমন্বিত ব্যক্তিত্ব... ত্যাগে বেহিসেবী, কর্মে বিরামহীন, প্রেমে সীমাহীন, স্বামীজীর জ্ঞান ছিল যেমন গভীর তেমনই বহুমুখী। ভাবাবেগে উচ্ছ্বসিত স্বামীজী মানুষের ত্রুটিবিচ্যুতির নির্মম সমালোচক ছিলেন, অথচ সারল্য ছিল তাঁর শিশুর মতো।" — সুভাষচন্দ্র বসু

শান্তা শ্রীমানী
সাধারণত রাজা ও সম্রাটরা নিজেদের কীর্তিকে অক্ষয় করে রাখার জন্য প্রাসাদ স্তম্ভ মিনার নির্মাণ করেন। কিন্তু মোঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বাবর কোনো প্রাসাদ স্তম্ভ বা মিনার নির্মাণ করেননি, পরিবর্তে তিনি তৈরি করেছিলেন অজস্র রাজকীয় বাগান। বাবরের এই বাগান-প্রীতি শুধু তাঁর বংশধরদের মধ্যেই নয়, সেনাপতি, আমীর, আমলা, উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গের মধ্যেও জারিত হয়েছিল। এই বাগানগুলির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মোঘল সাম্রাজ্যের নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মোঘল সাম্রাজ্যের এক দিক যেমন যুদ্ধবিগ্রহ, খুনোখুনি, রক্তে রাঙা— আর একদিক সাহিত্য, সঙ্গীত, স্থাপত্য, শিল্পকলায় সমৃদ্ধ। সেই সঙ্গে আর এক সংযুক্তি তাঁদের বাগানবিলাস। ইতিহাসের ধুলো ঝেড়ে ১০০টিরও বেশি বাগানের ইতিহাস, স্থাপত্য দুই মলাটে গ্রন্থিত হল। মোঘল ও বিদেশি শিল্পীদের আঁকা অজস্র ছবির অন্তর্ভুক্তি বইটিকে দ্যুতিময় করে তুলেছে।

সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায়
সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায়, নাম তো শুনা হি হোগা। তাঁর রাপ্পা রায়ের কমিকস পড়েননি এমন বাঙালি পাঠক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। সৃষ্টিসুখ থেকে প্রকাশিত হতে চলেছে সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কার্টুনের সংকলন। আর্ট পেপারে ছাপা রঙিন এই বইটির মূল্য ৪৯৯ টাকা।

নন্দ মুখোপাধ্যায়
নেহরু ভারতকে ভালবেসেছিলেন ঠিকই, কিন্তু বুদ্ধিমানের মতো। অপরপক্ষে সুভাষচন্দ্র দেশকে ভালবেসেছিলেন অতি মাত্রায়, কিন্তু উচ্চাভিলাষ তাঁর ছিল না। গান্ধীবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত নেহরু গ্রহণ করতে পারেননি। কারণ সাংগঠনিক ক্ষমতা তাঁর ছিল না; এবং গান্ধীবাদের বিরোধিতার পরিণাম কী হতে পারে তা নেহরু ভালমতোই আঁচ করতে পেরেছিলেন। দ্বিতীয়ত, গান্ধীজী নেহরুকে তাঁর উত্তরাধিকার বলে ঘোষণা করায় নেহরু গোপন আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন যে ভারত স্বাধীন হলে তিনিই হবেন স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। বামপন্থার প্রবক্তা হয়েও নেহরু কেন রক্ষণশীল এবং আপোষকামী কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে একমত হয়ে সুভাষচন্দ্রের বিরোধিতা করেছিলেন তার যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা নেহরুর কাছেও ছিল না।