উপন্যাস
98 টি বই

মৃত্তিকা মাইতি
একসময়ের উদ্বাস্তু কলোনি। শহরের গায়ে যেন আঁচিলের মতো লেগে। বদল ঘটেছে তার বাইরে ও ভেতরে। এখানে তাপস নামের আলাভোলা ছেলেটি বাড়ি বাড়ি ডিম বিক্রি করতে ঘুরে বেড়ায়। তার চোখে ভেসে ওঠে এক-একটি পরিবারের কাহিনি, সময় ও চারপাশের বদল, রাজনীতির রূপান্তর। এখানে মন্দিরে ঘণ্টার শব্দ, মসজিদে আজান। ঘরের চালে, গাছে ঘুরে বেড়ায় কাঠবিড়ালি। গাছ কেটে, কুয়ো বুজিয়ে ঘর বাড়ায় ধর পরিবার। কর্পোরেশনের জল নিয়ে ঝগড়া করে বাসিন্দারা। পারুল ও শেখরের ঘড়িবাড়ি সময় মেলানোর চেষ্টায় থাকে। ক্লাবের ছেলেরা আধা মস্তান হয়ে দাপিয়ে বেড়ায়। কালী বাজারে চায়ের দোকান সামলায়। তাপসের সঙ্গে এক বিচিত্র সম্পর্কে জড়িয়ে থাকে সে। শিস দিয়ে পায়রা ওড়ায় ভণ্ডুলে ও তার দলবল। বৃদ্ধ শান্তিরঞ্জন কোনও বাতিল মানুষের মতো আচ্ছন্ন থাকেন স্মৃতিতে। সাতচল্লিশের আগে ছিলেন ভারতবর্ষে। এখনও বুঝে উঠতে পারেন না কোনটা নিজের দেশ। জনপদ তার উত্তর খোঁজে।

অবিন সেন
জীবন এক অনন্ত পথের প্রহেলিকা। একদিকে ওড়িশা রাজ্যের সঙ্গে বিজয়নগর রাজ্যের একটা দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ। অন্যদিকে গৌড়ের অধিপতির ওড়িশা রাজ্য বিজয়ের প্রবল আকাঙ্ক্ষা। এহেন এক অস্থির সময়ে নীলাচলে এসে উপস্থিত হলেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু। তাঁর জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে গেল মহারাজা প্রতাপরুদ্রদেব আর রাজনীতির জটিল আবর্ত। কিন্তু উৎকলের রাজনীতিতে তাঁর এই প্রভাব অনেকেই মেনে নেয় না। শুরু হয় এক গভীর ষড়যন্ত্র। এই কূট রাজনীতিতে জড়িয়ে যায় রাজার মহিষী, বিদুষী রাজকুমারী তুক্কা, বণিক নৃসিংহ উপরায়, মন্ত্রী গোবিন্দ বিদ্যাধর ও আরও অনেক মানুষের জীবন। বিশ্বাসঘাতকতা, ষড়যন্ত্র, রাজনীতি আর মানবতার গভীর টানাপড়েন কোন অনন্তের দিকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে তাঁদের?
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
পথের পাঁচালীর পরের পর্ব। গ্রাম ছেড়ে কাশী, তারপর কলকাতা — অপুর বড় হয়ে ওঠা, পড়াশোনা, প্রেম আর শোকের আখ্যান।

হামিরউদ্দীন মিদ্যা
এই সময়ের তরুণ কথাকারদের মধ্যে হামিরউদ্দিন মিদ্যা অন্যতম আলোচিত, তাঁর শক্তিশালী লেখনীর কারণেই। বাংলা কথাসাহিত্যের শাশ্বত ব্যাটানটি তিনি তাঁর চর্চিত হাতে তুলে নিয়েছেন বেশ কিছুদিন হল। বয়স অল্প। কিন্তু জীবনের যে পাঠ এই তরুণ লেখক পেয়েছেন বা প্রতিনিয়ত পেয়ে থাকেন, তা কোনও বয়সের তোয়াক্কা করে না। জীবনই তাঁকে শিখিয়ে দিয়েছে অহরহ চোরাবাঁক, ভেঙে পড়া আলপথগুলিকে। জীবনই তাঁকে শিখিয়ে দিয়েছে এবড়োখেবড়ো মাটির সখ্য। জীবনের এই আহরণ আর সংবেদী মন, তরুণ লেখককে দিয়েছে এক অবিশ্বাস্য পরিণতিবোধ। যা তাঁর গল্পের ছত্রে ছত্রে ফুটে ওঠে। পাঠক তাঁর পর্যবেক্ষণের গভীরতার সামনে দাঁড়িয়ে বিস্মিত হয়, এবং সবশেষে গল্পে যে অভিঘাত তুলে রাখেন তিনি, তাতে বিহ্বল হতে হয়। আর এই সবকিছুর মধ্যে হামিরউদ্দিন আসলে সচেতনভাবে নির্মাণ করে চলেন তাঁর চিরচেনা গ্রামীণ জীবনের সুষমা। নাগরিকতার শর্তগুলো তিনি খুব আলগোছে ভেঙে ভেঙে দিয়ে এগোতে থাকেন। শুধু ধুলোকাদার গন্ধ বা ভাষাতেই নয়, তাঁর গল্প তাই সঠিক অর্থেই নিরাবরণ জীবনকে জড়িয়ে ধরতে চায়, চায় নিরলংকার, পালিশহীন, নগ্ন জীবন আর তার সত্যের মুখোমুখি দাঁড়াতে। এই আশ্লেষ পাঠককে ভাবায়, অস্থির করে। সেটাই হামিরউদ্
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সন্ন্যাসী বিদ্রোহের পটভূমিতে লেখা উপন্যাস, যার ভিতরে জন্ম নিয়েছিল 'বন্দে মাতরম্'।

সৈকত ভট্টাচার্য
না-জানি সেই কোন প্রাগৈতিহাসিককাল থেকে ভারতবর্ষের উত্তরে সীমানা রচে দিয়েছে হিমালয় পর্বত। তার ওপারে শুষ্ক তুষারমরুর দেশ তিব্বত। দুর্লঙ্ঘ্য হিমালয়ের জন্যই বুঝি এদেশের সম্রাটরা দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দিকে রাজত্ব বিস্তার করলেও কখনও সেভাবে উত্তরের দিকে মন দেননি। ফলে তিব্বত হাজারো কিংবদন্তি আর লোককথাকে সঙ্গী করে রয়ে গেছে রহস্য-বেষ্টনে। সেখানকার প্রাচীন বোন ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন পশুপালক গোষ্ঠীর মধ্যে ইয়ারলুং গোষ্ঠী একদিন শক্তি সঞ্চয় করে গোটা তিব্বতের অধীশ্বর হয়ে বসল। সম্রাট স্রোংচেন গামপো থেকে ঠিস্রোং দেচেন— একের পর এক প্রতাপশালী সম্রাটের হাতে তিব্বত এক শক্তিশালী সাম্রাজ্য হয়ে উঠল। শুধু তো বিজয়রথ ছোটানো নয়, সম্রাটরা কথ্য তিব্বতি ভাষার লিপি নির্মাণ থেকে শুরু করে ভারতবর্ষ থেকে বৌদ্ধ পণ্ডিতদের আমন্ত্রণ করে নিয়ে যাওয়ার মধ্যে দিয়ে কুসংস্কারের অন্ধকারে থাকা মানুষদের জ্ঞানের স্পর্শ দিয়েছিলেন। অতীশ দীপঙ্করের নাম তো আমরা সকলেই শুনেছি। কিন্তু তাঁরও অনেক আগে তিব্বতে পা রেখেছিলেন আর এক বৌদ্ধ পণ্ডিত— আচার্য শান্তরক্ষিত। তাঁর হাত ধরেই তিব্বতের প্রথম বৌদ্ধ বিহার সাম-য়ে-র প্রতিষ্ঠা হয়, তিব





