শিশুসাহিত্য
8 টি বই
সুকুমার রায়
কুমড়োপটাশ, বোম্বাগড়ের রাজা, রামগরুড়ের ছানা — বাংলা ননসেন্স ভার্সের অতুলনীয় সংকলন, যা বড়দের জন্যও।

রোহণ কুদ্দুস
এবার আর একটি ভালো লাগা বইয়ের কথা লিখি। বইটা ছোটদের, কিন্তু ছোট বড় সবার ভালো লাগবে। আমি তো পড়েছি এক নিঃশ্বাসে। যেমন লেখা, তেমন ছবি! বইটির নাম উত্তমকুমার এক বন্দুকবাজ বাঘের গল্প। যতই এগিয়েছে উত্তমকুমার নামে বন্দুকবাজ বাঘের গল্পটা, ততই জীবনের রঙ গাঢ় হয়েছে, ততই ছেলে-ভোলানো গপ্প থেকে হয়ে উঠেছে ছোট বড় সকলের মন-ভোলানো কাহিনি। সত্যি কথা বলতে কী কিছুদূর এগোবার পর সন্দেহ হচ্ছিল উত্তমকুমারের চূড়ান্ত গন্তব্য নিয়ে। তখনও জানি না ওস্তাদের মার শেষ রাতে আর সেই মার অনায়াসে যার করায়ত্ব, তিনি লেখক রোহণ কুদ্দুস, ওর জন্য এক বিষণ্ণ কিন্তু অমোঘ ব্যবস্থার বন্দোবস্ত করে রেখেছেন। অবশ্য পাশাপাশি উচ্চারণ করতেই হয় তন্ময় বিশ্বাসের নাম। কী সব অসাধারণ ছবি এঁকেছেন পাতার পর পাতায়! এই বইয়ের কাহিনিসূত্রকে চোখের সামনে রঙে রঙে সাকার হয়ে উঠতে দেখাটা ভারী ভাল লাগার ব্যাপার৷ বিশেষত অনেক চরিত্রই যখন বাস্তব থেকে নেওয়া আর চেহারাও আঁকা হয়েছে তাদেরই আদলে। সবাই জানি শিশুসাহিত্য ব্যাপারটা মোটেই শিশুসুলভ নয়। কল্পনা, রোম্যান্স, সচেতনতা, কোমল অনুভূতির বিকাশ, মননশীলতা, নিজের পারিপার্শ্বিককে ভালবাসা, এডভেঞ্চার, সব নির্দিষ্ট মাপে মিশিয়ে দু
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
গান আর ঢোল নিয়ে দুই বন্ধুর পথে বেরিয়ে পড়া, আর ভূতের রাজার তিন বর। সত্যজিৎ রায়ের ছবির মূল কাহিনি।

সঙ্গীতা দাশগুপ্তরায়
গুপের গল্প লেখা গুপে দিনের বেলা ভারী সাহসী কিন্তু রাতের বেলায় তার গা ছমছম করে। বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলে লোককে বোকা বানাতে সে ওস্তাদ। ইস্কুলের কেউ কেউ তাকে ভালোবাসে, কেউ কেউ আবার হিংসেও করে। উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে গুপে বড়দেরও বোকা বানিয়ে দেয়। সব মিলিয়ে গুপে হল তোমার মতো কিংবা তোমার বন্ধুর মতোই দুষ্টু। তবে গুপে একাই কি দুষ্টু, নাকি ইস্কুলের টিচাররাও তার মতোই দুষ্টু? রসরাজ ঘোষাল আর মুরগির গল্প রাঙামামু বাড়িতে এলেই নমু আর তার দিদির ভারী মজা। রাঙামামুর ঝুলিতে কত রকমের যে গল্প! একদিন মামু শোনায় তাদের বংশের এক বিখ্যাত মানুষের গল্প। মামুর চোখে তিনি নাকি প্রাতঃস্মরণীয় মানুষ। তাঁর নাম রসরাজ ঘোষাল। বাড়ির বড়দের আহ্লাদে বেড়ে ওঠা কুঁড়ে রসরাজ কেমন করে ভাগ্যের সন্ধানে গ্রাম ছেড়ে বেরোন এবং কত অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাতে কাটাতে একদিন ভুল সংস্কার ভেঙে ফেলেন সে গল্প পড়লেই বুঝতে পারবে শ্রী ঘোষাল আদৌ প্রাতঃস্মরণীয় কি না। সমুদ্রের গোলাপ সারাংগা গাঁয়ের সহজ সরল মাছধরা মানুষগুলো ভয় পায় একটা শব্দকে। রোসা-দো-মার, তর্জমা করলে ‘সমুদ্রের গোলাপ’। বিশাল কালো ভয়ধরানো এক জাহাজের ছায়া-ছায়
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
লালকমল-নীলকমল, ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমী, সাতভাই চম্পা — বাংলা রূপকথার সেই সংকলন যা প্রতিটি বাঙালি শৈশবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

রোহিনী ধর্মপাল, যশোধরা রায়চৌধুরী
'দস্যি মেয়ের রূপকথা' নামে প্রকাশিত হয়েছিল একটি রূপকথার সংকলন। সেই সংকলনে ছিল পুণ্যলতা চক্রবর্তী, গৌরী ধর্মপাল, নবনীতা দেবসেন-এর মতো মানুষের গল্প। ছিল বাণী বসু, জয়া মিত্র, অনিতা অগ্নিহোত্রী, অনুরাধা কুন্ডা, যশোধরা রায়চৌধুরী মতো সিনিয়রদের থেকে শুরু করে রোহিণী ধর্মপাল, অনুষ্টুপ শেঠ, সঙ্গীতা দাশগুপ্ত রায়দের মতো অপেক্ষাকৃত নতুন গল্পকারদেরও লেখা। কী ছিল সেই সংকলনে? আমরা চেয়েছিলাম ছোটরা শিখুক রূপকথার গল্প মানেই সুখের সন্ধানে রাজকন্যাকে শেষমেশ বিয়ে করে ফেলতে হবে না। সে প্রশ্ন তুলতেই পারে রাজপুত্রের যোগ্যতা নিয়ে। রাণি শঠ বা রাক্ষসী হলেও বদলে যেতে পারে এক সময়। রাজপুত্রেরও শিকার ছেড়ে রান্না করতে ভালো লাগতে পারে। আমাদের চিরাচরিত প্রচলিত রূপকথার মধ্যে লিঙ্গবিদ্বেষ ও বৈষম্যের অমোঘ চিহ্নগুলো সরিয়ে রেখে আমরা চেয়েছিলাম নতুন করে রূপকথা লেখা হোক। দস্যি মেয়েদের সেই রূপকথার বই প্রকাশের পরবর্তী দেড় বছরে আমরা শত শত পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছি বইটা। কচিকাঁচা পড়ুয়ারা আমাদের জানিয়েছে ওই বই তাদের প্রিয় হয়ে উঠেছে। বয়সে বড় বহু পড়ুয়াও আমাদের উৎসাহ দিয়েছেন। তাই এবার প্রকাশিত হল 'দস্যি মেয়ের রূপকথা ২'। সম্পাদনা

সঙ্গীতা দাশগুপ্তরায়
পুনপুনের এই অ্যাডভেঞ্চার লিখেছেন সঙ্গীতা দাশগুপ্তরায়, এঁকেছেন শ্রীময়ী দাস চট্টোপাধ্যায়। যারা নতুন বাংলা পড়তে শিখছে, তাদের (এবং যারা গড়গড় করে বাংলা পড়ে ফ্যালে, তাদেরও) জন্যে এই বই এক দারুণ মজার অভিজ্ঞতা হতে চলেছে।

সোমা বন্দ্যোপাধ্যায়
মনের মধ্যে যে জলফড়িং-টা মাঝে মাঝেই ইতিউতি উড়ে বেড়ায়, তার পেছনে ছুটতে ছুটতে বন্ধুদের কথা মনে পড়ে, পিছুপানে চিন্তাসূত্র উঁকি দেয়। সোমা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে নিয়মিত লিখে চলেছেন রম্য গদ্য। নিতান্তই আমাদের ছাপোষা জীবনের নানা সাধারণ ঘটনা। কিন্তু সোমা যখন আপাতনিরীহ টোটোরও শ্রেণিবিভাগ করতে শুরু করেন, তখন আপনা হতেই মুচকি হাসি চলে আসে ঠোঁটের আগায়। ফেসবুকে নিয়মিত প্রকাশিত হতে থাকা এইসব লেখাগুলোকে পাঠকের দাবিতে দুই মলাটের মধ্যে আনা হল আবারও।