রহস্য

6 টি বই

এ শুধু স্বাদের দিন
এ শুধু স্বাদের দিন

সাবিনা ইয়াসমিন রিংকু

মানুষের হৃদয়ে পৌঁছতে তার পাকস্থলী হল দ্রুততম রাস্তা— এমনটা তো আমরা প্রায়ই শুনে থাকি। সেটা যে কতটা সত্য তার জলজ্যান্ত প্রমাণ এই বইটি। সাবিনা ইয়াসমিন রিংকু তাঁর প্রথম বইতেই নিবিড় মায়ায় আর ভালোবাসায় পাঠকের হাত ধরেছেন। এ কোনও গুরুগম্ভীর রান্নার বই নয়। বরং সামনের জনকে বলা, “কতদিন এদিকপানে আসোনি, এসো দুটো কথা কই।” এবং সেভাবেই সামনের মানুষটাকে রান্নাঘরের সামনের বারান্দায় একটা পিঁড়ে পেতে দিয়ে তিনি শুরু করেছেন গল্প। লিখতে লিখতে সাবিনা ছুঁয়ে গেছেন নস্টালজিক কিছু মুহূর্ত, যা বাঙালির একান্ত আপন। রান্নাও যে আমাদের সংস্কৃতির একটা অন্যতম অংশ, সেটা বোধহয় নতুন করে ঝালিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে। মানুষের সঙ্গে সহজে মিশতে পারা সাবিনার একটা বড়ো গুণ। তাই তিনি ফুটপাথে হোটেল খুলে বসা বা বাজারে সবজি বা মাছ বিক্রেতা মানুষগুলোর গল্প জেনে নেন। তাঁদের বাড়িতে নিমন্ত্রিত হয়ে জেনে নেন রান্নার সহজ অথচ গূঢ় কিছু কৌশল। সামান্য আয়োজনেই সেজে উঠেছে এ বইয়ের অধিকাংশ রান্না। তাই এই বই সব্বার। হোস্টেল থেকে বেরিয়ে সদ্য চাকরি পাওয়া তরুণ-তরুণীর। মধ্যবয়সি দম্পতির। গতযৌবন প্রৌঢ়-প্রৌঢ়ার। এমনকি জীবনের অপরাহ্নে পা রাখা মানুষদেরও। কেউ খুঁজে প

₹200
জগৎপুর
জগৎপুর

ওয়াহিদার হোসেন

জগৎপুর নামটি দ্বৈত অর্থে ব্যবহার করা যেতে পারে। যা জাগতিক তাকে নিয়েই আলোড়িত হয় মানুষের মন, মনন। এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র আমানকে ঘিরেই কাহিনি দানা বাঁধে ডুয়ার্সের এক কল্পিত গ্রামে। খুব সহজ, খুব অনাড়ম্বর আমানের গ্রাম্যজীবনে হঠাৎই ধূমকেতুর মতো আবির্ভাব হয় দক্ষিণবঙ্গের এক সুফি সাধকের। আমানের ব্যক্তিগত জীবনের সমান্তরালে প্রবাহিত হতে থাকে আর-এক জীবন, যে জীবন দোয়েলের, ফড়িংয়ের। কৈশোরের ভালোবাসাকে হারিয়ে আমানের জীবন হয়ে ওঠে ছন্নছাড়া। সঙ্গে জটিল শারীরিক ও মানসিক ব্যাধি। অভাবিতভাবেই শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে আমানের বিরুদ্ধে। জেল হয় তার। তারপর কীভাবে আমান নিজেকে খুঁজে পেল। আমান কে? তার আত্মউন্মোচন কীভাবে হল? নিজের সঙ্গে কীভাবেই বা হল চেনাজানা? নাজাতের খোঁজেই জগৎপুরের অনিবার্য জার্নি। জগৎপুরেই আছে দাদা হুজুরের মাজার। সেখানে কি এমন হল আমানের সঙ্গে? মোক্তারপুরের যুবক আমান ওরফে আমানুদ্দিনের সঙ্গে হজরতের সাক্ষাৎ তাকে কতটা বদলে দিল? কাঙ্ক্ষিত নাজাত পাওয়ার জন্যই বুঝি এই জগৎপুরের যাত্রা। এই জার্নি মিস্টিক, উপভোগ্য এবং একই সঙ্গে আবিল, বিষাদমথিত।

₹299
যাদের দেশ বলে কিছু নেই
যাদের দেশ বলে কিছু নেই

শতরূপা বোস রায়

শতরূপা বোস রায়ের 'যাদের দেশ বলে কিছু নেই'-তে ইউরোপে আশ্রয়প্রার্থী মানুষদের যাত্রার জটিলতা এবং তাদের পুনর্বাসনের এক তথ্যনিষ্ঠ অথচ মর্মন্তুদ বয়ান তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক এবং সামাজিক-রাজনৈতিক ভূ-দৃশ্যের রূপরেখাও উঠে এসেছে ছত্রে ছত্রে।আশ্রয়প্রার্থীরা কেবল পরিসংখ্যান নয়; তারা স্বপ্ন, ভয় এবং অজানা প্রতিভায় পরিপূর্ণ এক-একজন রক্ত মাংসের মানুষ। তাদের মূলে রয়েছে একটা মানবিক হৃদয় যা আমাদের সকলের মতোই ভালোবাসা, করুণা, বিশ্বাসঘাতকতা, অনিশ্চয়তা, মৃত্যু এবং অগণিত ক্ষতচিহ্ন নিয়ে এখনও নিঃশ্বাস নিয়ে চলেছে। এদের দৈনন্দিন কার্যকলাপ— নাগরিকত্ব কেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘ অপেক্ষা, আমলাতান্ত্রিক বাধা, আনন্দ আর পারস্পরিক সহায়তার ছোট ছোট মুহূর্তগুলো সম্পর্কে কথা বলে আশ্রয় নীতি আর এই মানুষগুলোর সম্পর্কে আরও সূক্ষ্ম দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়েছে। বইটির শক্তি এই গল্পগুলোর মধ্যেই, এদের বেঁচে থাকার সত্যতা এবং মানসিক পরিস্থিতির মধ্যেই নিহিত।

₹325
সাগরতীরের সোনার দেশ
সাগরতীরের সোনার দেশ

কাকলি দেবনাথ

দুর্গাপুর শহরের মেয়ে তিথি, চোখে ছিল উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন। কিন্তু তার আগেই তার বিয়ে হয় গণ্ডগ্রামে। স্বামী রঙ্গন পেশায় মার্চেন্ট নেভির কর্মী। বিয়ের পর তিথির জীবন এক নতুন মোড় নেয়, শহুরে স্বাচ্ছন্দ্য ছেড়ে তাকে মানিয়ে নিতে হয় গ্রামের খোলামেলা, কখনও বা কঠোর বাস্তবতার সঙ্গে। স্বামী বছরের অর্ধেক সময় সাগরে থাকে, আর তিথিকে একা সামলাতে হয় শ্বশুরবাড়ির রক্ষণশীল পরিবেশ, অনুশাসন এবং গ্রামের বিচিত্র সব নিয়মকানুন।এই উপন্যাসে উঠে এসেছে নদিয়ার তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষের জীবনসংগ্রাম, বন্যাবিধ্বস্ত গ্রামীণ জীবনের অসহায়তা এবং পূর্ববঙ্গ থেকে আসা ছিন্নমূল মানুষের নতুন করে শিকড় গাড়ার ইতিহাস। তিথি দেখেছে বন্যার সময় মানুষের ঐক্য, রাধারানির মতো মেয়ের বিয়ের নামে বলি হওয়া, আবার শিবানির মতো গৃহবধূর নীরব আত্মত্যাগ।দীর্ঘ আড়াই দশকের পথচলায় তিথি প্রত্যক্ষ করেছে সময়ের পরিবর্তন, প্রজন্মের ব্যবধান এবং গ্রাম থেকে শহরে স্থানান্তরের কাহিনি। ‘সাগরতীরের সোনার দেশ’ কেবল একটি মেয়ের বধূজীবনের গল্প নয়; এটি ভালোবাসা, বিচ্ছেদ, মাতৃত্ব এবং একান্নবর্তী পরিবারের ভাঙা-গড়ার এক বিশ্বস্ত দলিল। সৃষ্টিসুখ থেকে

₹200
স্মৃতিরক্ষা কমিটি
স্মৃতিরক্ষা কমিটি

সরোজ দরবার

এই উপন্যাসের পটভূমি ২০২৪-এর ১৪ আগস্টের সেই উত্তাল রাত, যা কলকাতা তথা সমগ্র বাংলাকে তার হারানো প্রতিবাদের স্বর ফিরিয়ে দিয়েছিল। ওই একটি রাতের প্রেক্ষিতে তরুণ প্রজন্মের মনে জন্ম নেওয়া অস্তিত্বের সংকট আর হাজারো জিজ্ঞাসায় এগিয়ে চলে কাহিনি। কেবল একটি মেয়ের ধর্ষণ আর মৃত্যুতে বিচার চাওয়ার কাহিনি এ নয়, বরং পুরুষের অপরাধবোধকে ধিকিধিকি আত্মবীক্ষণের আগুনে ঝালিয়ে নেওয়ার একটা টেক্সট। এই উপন্যাস গণ-আন্দোলনের গভীরে লুকিয়ে থাকা ব্যক্তিগত ক্ষতের মানচিত্রও বটে। তাই রাষ্ট্রযন্ত্র যখন অপরাধীকে আড়াল করতে চায়, আর সময় সব ধুয়ে মুছে দিতে চায়, তখন এই উপন্যাস প্রশ্ন তোলে— “স্মৃতি কি কেবলই ব্যক্তিগত, নাকি এটি এক রাজনৈতিক হাতিয়ার?” শহরের কোলাহলের মাঝে এইটবি বাস স্ট্যান্ডে প্রতিদিন বিকেলে এসে দাঁড়ান দুই বৃদ্ধ— রাধানাথ এবং তারানাথ। হাতে তাঁদের আপাতসাধারণ পোস্টার। তাঁদের এই নিস্পৃহ অবস্থান এক মর্মান্তিক মৃত্যু আর তার পরবর্তী বিস্মৃতির বিরুদ্ধে এক নীরব লড়াই।

₹325